প্রধানমন্ত্রীকে ভোট কারচুপির অভিযোগের প্রশ্ন করে ধরা খেলো বিবিসি

0
165

নিউজ ডেস্ক : রোববার (৩০ ডিসেম্বর) একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটকে বিতর্কিত করতে পুরনো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রামের একটি কেন্দ্রে আগে থেকে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার বিষয়টি সঠিক হলেও সেখানে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি’র এক সাংবাদিকের প্রশ্নে জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের পর বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রশ্ন সম্মুখীন হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবিসি বাংলা ভোটের দিন বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যাতে ভোটে বাধা দানসহ অনিয়মের অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেগুলো ছিলো পুরনো ভিডিও ক্লিপ বলে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে মনোনয়ন দেওয়া আর ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি, জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা, সাংগঠনিক শক্তির অভাব, নেতৃত্বে দুর্বলতার কারণে হেরেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিবিসি জানতে চায়, চট্টগ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই বাক্সে ভরে রাখা ব্যালটের বিষয়ে। প্রশ্নটি ছিল, ‘নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এসেছে। বিবিসি ভোট কারচুপির একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে- ভোট শুরুর আগেই বাক্স ভরা ব্যালট পেপার দেখা গেছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন -এটি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে?’ এই প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মনে হয় আপনি একটি ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। কিন্তু আপনি কী দেখেছেন সেখানে কী লেখা আছে, কোথাকার ব্যালট বাক্স সেগুলো?’ বিবিসি: সেটা আমরা জানি না। কিন্তু আমরা একটা ভিডিও করতে পেরেছি। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এ ধরণের খবর এসেছে। বিসিসি’র এই ‘জানি না’ শব্দটিই প্রমাণ করে না পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই বাছাই না করেই তারা একটি প্রশ্ন করেছেন। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কোনো বিষয় না জেনেই বিব্রতকর প্রশ্ন করা কতোটুকু যৌক্তিক? তবে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকের ওপর কোনো ক্ষোভ না প্রকাশ না করে মার্জিতভাবে বলেন, ওইটা এই নির্বাচনের ফুটেজ না। ওইটা অতীতের নির্বাচনের ঘটনা। আমার ধারণা, সেটা মেয়র নির্বাচনের সময়কার। তখন গণনার জন্য ব্যালটবাক্স নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই ছবিটা প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এখানে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। বিবিসি: প্রধানমন্ত্রী, এটি আসলে চট্টগ্রাম থেকে বিবিসির রিপোর্টারের তোলা নতুন ফুটেজ। শেখ হাসিনা : হ্যাঁ, সেটা সঠিক ….শুধুমাত্র চট্টগ্রামেরটা ঠিক ছিল। কিন্তু বাকিটা ফ্যাব্রিকেটেড, অনেক পুরনো ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। কোনো ধরণের অভিযোগ আসলেই নির্বাচন কমিশন দ্রুত সেই কেন্দ্রে ভোট বাতিল করে দেয়। সেখানেও নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। কোন ধরণের অনিয়ম হলে, সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে দেয়া হয়। কখনো কোনো ঘটনা ঘটতে পারে, তবে আমরা ব্যবস্থা নেই। অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here