সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর ‘মৃত্যু’র গুজব ছড়াচ্ছে কুচক্রী মহল

0
319

নিউজ ডেস্ক: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দুর্বৃত্তদের হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূ মারা গেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। ওই গৃহবধূ বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চিকিৎসক মো. খলিল উল্লাহ বলেছেন, আগের তুলনায় তার অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এদিকে ওই গৃহবধূর মৃত্যুর খবরটি গুজব বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিমও। তিনি জানিয়েছেন, যারা এই ঘটনা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে জড়িতদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোন ধরণের ছাড় দেয়া হবে না। শুধু নোয়াখালীর ধর্ষণের ঘটনাই নয়, সারা দেশের যেখানেই যারা অপরাধ করবে, সে যে দলেরই হোক, শাস্তি পেতেই হবে। এদিকে সুবর্ণচরের ওই গৃহবধূর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকে আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ওই গৃহবধূ তার পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন বলেও জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর সুবর্ণচরে চার সন্তানের এক জননীকে একদল দুর্বৃত্ত গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিবেশী সালাউদ্দিন নামের এক লোক অভিযোগকারীর বাড়িতে আসে এবং তার নাম ধরে ডাকে। এ সময় তার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পূর্ব-শত্রুতার জেরে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারতে থাকে। একপর্যায়ে তারা অভিযোগকারী ও তার সন্তানদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তাকে গণধর্ষণ করে। এছাড়া অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার আগে অভিযোগকারীর বাড়িঘর ভাঙচুর করে বলেও মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- বাদশা আলম ওরফে বাসু এবং স্বপন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন- মো. সোহেল (৩৫), হানিফ (৩০), চৌধুরী (২৫), বেচু (২৫), আবুল (৪০), মোশাররফ (৩৫) এবং সালাউদ্দিন (৩৫)। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, রাতে রামগতির আজাদ নগর এলাকায় তার এক আত্মীয়র বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here