ঢাকার সঙ্গে ৬৪ জেলার সড়কের সংযোগ ৪ লেনের করা হবে

0
379

দূরপাল্লার সড়কগুলোতে পরিবহন দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই বহু মানুষ মারা যাচ্ছে অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করছে। এর মূল কারণগুলোর একটি হলো মূল সড়কে লেনগুলোর তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি। ফলে কখনো আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা, কখনো বা অসাবধানতা বসত অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক পথে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ যানবাহনের চাপ সামলাতে, এ পথে দেশের যোগাযোগ যুগোপযোগী করতে, দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনতে এবং শিল্প-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনতে এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক রোড, সাসেক হাইওয়ে করিডোরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক-উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক করিডোরে অন্তর্ভুক্ত হতে সরকার চার লেনে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। দূরপাল্লার পরিবহনের যাতায়াত নিরাপদ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ৬৪ জেলাকে ঢাকার সঙ্গে চার থেকে ছয় লেনের সড়ক দিয়ে সংযোগ করার পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। গুরুত্বপূর্ণ এ জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি মহাসড়কের দুই পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য মূল সড়ক থেকে সামান্য নিচুতে দুটি সংরক্ষিত লেনও থাকবে বলে জানান তিনি। সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে এশীয় মহাসড়কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি চাইছে। এ জন্য ২০০৯ সালে এশীয় মহাসড়কের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপনে একটি চুক্তির মাধ্যমে ‘দ্য ইন্টারগভর্নমেন্টাল এগ্রিমেন্ট অন দ্য এশিয়ান হাইওয়ে’ নেটওয়ার্কভুক্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে একটি সড়ককে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয় এশীয় মহাসড়কের নকশা। বিভিন্ন জটিলতায় ওই নকশা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এশীয় মহাসড়কের বিষয়টি মাথায় রেখে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতীয় মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কগুলো খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে। এসব মহাসড়কে মালবাহী ট্রাকের ধারণক্ষমতা মাত্র আট টন। আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুরু হলে ১২ টন ওজনের ট্রাক চলাচল করবে। তাই দুর্বল কাঠামোর মহাসড়ক সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য চার লেন সড়কের বিকল্প নেই। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকার গত কয়েক বছরে অনেকগুলো প্রকল্প শেষ করেছে। এবার সড়ক-মহাসড়কের উন্নয়নে হাতে নিয়েছে বেশ কিছু বড় প্রকল্প। সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখে মহাসড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর- এই দুটি চার লেন প্রকল্প এরই মধ্যে শেষ করেছে সরকার। এখন নতুন করে এলেঙ্গা-রংপুর, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কগুলোকে চার লেন করতে উদ্যোগ নিয়েছে। যার মধ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা চার লেন সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে এলেঙ্গা-রংপুর চার লেন প্রকল্পেরও কাজ শুরুর অপেক্ষায়। চার লেন করার জন্য চিহ্নিত মহাসড়কগুলোর মধ্যে আছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, সিলেট-তামাবিল-জাফলং, ঢাকা-মাওয়া, মাওয়া-ভাঙ্গা, গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখলা, টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড, ফরিদপুর-বরিশাল ও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক। চার লেনের পরিকল্পনায় আরো আছে ময়মনসিংহ-জামালপুর-শেরপুর, হাটিকুমরুল-বনপাড়া-রাজশাহী, বনপাড়া-ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-যশোর, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-হাটিকুমরুল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here