তালেবানের কাছে বিক্রি না করার আকুতি আফগান নারীদের

0
171

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আফগান তালেবান কারোরই হার-জিত কিছুই হয়নি। অবশেষে গত বছর থেকে মার্কিন প্রতিনিধি আর তালেবান নেতাদের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়েছে। কিন্তু তালেবান ক্ষমতায় আসলে নির্যাতিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির ৭০০ জন নারী। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আশঙ্কার কথা জানিয়ে তারা বলছেন, ‘দয়া করে তালেবানের কাছে আমাদেরকে বিক্রি করবেন না।’ নিজেদের অধিকার নিয়ে ঠিকঠাক কথা বলতে পারেন না আফগান নারীরা। তাদের সবেচেয়ে বড় ভয় তালেবান। স্বাধীনতা কিংবা নারী অধিকারে ছিটেফেটাও তারা ভোগ করতে পারেন না। আর এতদিন ধরে চলা যুদ্ধের অন্যতম ভূক্তভোগী সেই নারীরা যুদ্ধ নিয়েও কথা বলতে পারেন না। কিন্তু সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে তা আফগান নারীদের চরিত্রের স্বভাববিরুদ্ধ। তালেবানদের সঙ্গে সমঝোতা করতে দেশের ৭০০ জন নারী একত্রিত হয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তারা বলছেন, ‘আমরা শান্তি চাই। কিন্তু সেটা আমাদের অধিকারের বিনিময়ে নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে তালেবানের যখন কথিত শান্তি আলোচনা চলছে ঠিক একই সময়ে আফগানিস্তানে গত ১৮ বছরের মধ্যে ভয়াবহ হামলা আর হতাহতের খবর আসছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী গত ১৮ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের মানুষরা মার্কিন-তালেবানের আলোচনার মাধ্যমে শান্তি আসবে বলে এক সন্ধিক্ষণের আশায় দিন গুণছে। তবে তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ছিল না আফগান সরকারের কোনো প্রতিনিধি। আফগানিস্তানের অনেক নারী এই শঙ্কায় আছেন যে যদি পুনরায় তালেবান ক্ষমতায় আসে তাহলে নারীদেরকে আগের মতো আবার সেই অরক্ষিত ও বিপর্যয়কর একটা নতুন পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে। যেখানে তালেবানের বেধে দেয়া নিয়ম-কানুন না মানলে তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের নারীদের নিয়ে সম্প্রতি একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। প্রেসিডেন্ট ঘানি সেই সম্মেলেন নারীদের পক্ষে থাকার কথা বলে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের নারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে তিনি সবসময় পাশে থেকে তাদের সমর্থন জুগিয়ে যাবেন। গোটা দেশের নারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সেই সম্মেলনে একজন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে যখন প্রশ্ন করেন, ‘আপনার উচিত খুনিদেরকে কারাবন্দি করা’, তখন প্রেসিডেন্ট তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন। প্রশ্নকর্তা ৪৮ বছর বয়সী ওই নারীর নাম নারগিস কুরবানি। তালেবানের সদস্যরা ১৯৯৭ সালে তার স্বামীকে হত্যা করে আর সেনাবাহিনীতে কর্মরত তার ছেলে এখন পঙ্গু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here