শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

0
269

শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দূর করতে আগামী জাতীয় বাজেটে একগুচ্ছ প্রণোদনা থাকছে। বিশেষ প্রণোদনার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) শক্তিশালী করা, স্ট্যাম্প ডিউটি প্রত্যাহার, বন্ড মার্কেট কার্যকর করা এবং দ্বৈত কর প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত। এই প্রণোদনাগুলো জাতীয় বাজেটের প্রস্তাবে আসবে বলে নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে একটি পক্ষ সব সময়ই অল্প দামে শেয়ার কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে চান। সেক্ষেত্রে তারা শেয়ার লোভনীয় দামে কেনার জন্য নানা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক বাড়ান। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এক পর্যায়ে ধৈর্যচ্যুতি ঘটায় আতঙ্কে পুঁজি বাচাতে শেয়ার বিক্রি করেন। অন্যদিকে মার্কেট প্লেয়াররা অল্প দামে শেয়ার কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করেন। অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি কয়েকবার এমন আচরণ নিয়ে কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে পরবর্তীতে উত্থানের জন্য। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দরপতনও এমনি ঘটনা। এই উত্থান-পতনে আতঙ্কের কিছু নেই। তিনি বলেন, শেয়ার নিজস্ব শক্তিতেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নীতিগত কিছু প্রণোদনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটেই এই সব সিদ্ধান্ত উল্লেখ থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে শক্তিশালী করা। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারী নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সরকারের নীতি অনুযায়ী পুঁজিবাজারে ব্যাপ্তি বাড়াতে কাজ করে। এবার বাজারের স্বার্থে আইসিবির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রস্তাব দেয়। এ সময় অর্থমন্ত্রী তা বিবেচনার আশ্বাস দেন। এছাড়া একই সময়ে বিএসইসির পক্ষ থেকে বাজার স্থিতিশীলতার স্বার্থে কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মধ্যে আইসিবিকে শক্তিশালী করা ছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বৈত কর (কোম্পানি পর্যায়ে ও শেয়ারহোল্ডার পর্যায়ে) সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়েও প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারে কর সংক্রান্ত কিছু সমস্যা সমাধান এবং প্রণোদনা প্রদানের বিষয়েও অর্থমন্ত্রীর নিকট প্রস্তাব দেয় কমিশন। এই বিষয়টি বিবেচনায় এনে আগামী বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। একই সঙ্গে কমিশনের প্রস্তাবে রয়েছে, তালিকাভুক্ত-তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান বাড়ানো। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কর ছাড় বেশি হলে নতুন নতুন ভাল কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে বলে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী বাজেটে প্রাধান্য পাবে ট্রেজারি বন্ডগুলোকে লেনদেন যোগ্য করা এবং জিরো কুপন বন্ডকে উদ্ভূত করা। বন্ড মার্কেটের উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here