নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিএনপিতে গোলযোগ!

0
317

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের হিসাব জমা না দেয়ায় বিএনপিসহ ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে বাড়তি একমাস সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খরচের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল নিয়ে নতুন করে সংকট সৃষ্টি হতে পারে- এমন শঙ্কা এখন বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মীদের মনে। জানা গেছে, রোববার (১২ মে) বিএনপিকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইসির উপ-সচিব মো. আব্দুল হালিম খান। এদিকে ইসির নতুন করে সময় বাড়ানোতেও নতুন করে অস্বস্তি বেড়েছে বিএনপির রাজনীতিতে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দলটি এখন পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব তৈরি করতে পারেনি। জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি আসনে দলটির একাধিক বিকল্প প্রার্থী থাকায় আয়-ব্যয়ের হিসাবে যথেষ্ট গরমিল ও বিশৃঙ্খলা রয়েছে। এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় নির্বাচনী ব্যয়ের কোনো চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ তৈরি করা হয়নি। অচিরেই তাই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার জন্য দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ বাড়ছে। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে নয়াপল্টন বিএনপি পার্টি অফিসের সংস্কারপন্থী একটি সূত্র বলছে, নির্বাচনকালীন সময়ে মনোনয়ন পাওয়া ও স্ট্যান্ডবাই থাকা নেতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে কিছু চাঁদা নেয়া হয়েছিল। যা পরবর্তীতে দলের প্রার্থীদের পেছনে ব্যয় করা হয়। কিছু কিছু জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী দমনেও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে বিএনপিকে। এছাড়া নেতা-কর্মীদের নির্বাচনমুখী করতে আর্থিক প্রণোদনা, এজেন্টদের ম্যানেজ করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে বিএনপিকে। সব মিলিয়ে একেক আসনে একেক সংখ্যায় অর্থ ব্যয় করেছে বিএনপি। এছাড়া কিছু অর্থ লন্ডনে উপঢৌকন হিসেবে পাঠানোর গুঞ্জনও রয়েছে দলের অভ্যন্তরে। সূত্র আরো বলছে, সব মিলিয়ে তাই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব কষা বিএনপির জন্য দুঃসাধ্য এবং কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কষ্ট হলেও ব্যয়ের হিসাব না দিলে আবার দল চাপে পড়বে, এমন শঙ্কায় দিন কাটছে দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের। এদিকে রিজভী আহমেদকে এই দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি মনমতো খরচের তালিকা তৈরি করেছেন যা মির্জা ফখরুলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে জানা গেছে। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব দিতে না পারলে চাপে পড়বে দলটি, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কারণ, কোনো রাজনৈতিক দল যদি ব্যয়ের হিসাব না দেয়, তবে চাইলেই সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করে দিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here