শাড়ি তৈরির ধুম লেগেছে ঈশ্বরদীর বেনারসি তাঁতপল্লিতে

0
362

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: বাঙালি রমণী এবং শাড়ি যেন এক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আধুনিক যুগে এসেও রমণীদের দুর্বলতার জায়গায় রয়ে গেছে বাংলার শাড়ি। নারীদের আধুনিক পোশাকের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে এখনো মাথা উঁচু করে রয়েছে বাংলার আবহমান কালের ১২ হাতের শাড়ি। যদি সেটা হয় বেনারসি, কাতান, জামদানি তাহলে তো কথাই নেই। তাইতো সময় নেই কথা বলার কিংবা কারো দিকে তাকানোর। শাড়ি তৈরির ধুম লেগে গেছে। কারিগররা মহাব্যস্ত। ঈদের আগেই ক্রেতাদের হাতে পছন্দের শাড়িটি তুলে দিতে নির্ঘুম রাত পার করছেন। ঈশ্বরদীর বেনারসি তাঁতপল্লির কারিগরদের দিন-রাত এখন সমান, দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। বুধবার (২২ মে) সকালে ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লিতে গিয়ে দেখা গেছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত  কাজ করছেন তারা, এখন যা আয় হবে এতে বছরের কয়েকমাস তাদের ভালোভাবে সংসার চলবে। ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লির জামান ট্রেক্সটাইলে ১৭ জন বেনারসি কারিগর আপন মনে যত্ন করে বুনে চলেছেন এক একটি রং বেরঙের বেনারসি শাড়ি। ঈদকে সামনে রেখে ঈশ্বরদী তাঁতপল্লির কারিগররা কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে তাঁতপল্লিতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তাঁত শ্রমিকেরা বাহারি ডিজাইনের শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী এবং রমণীরা আসেন শাড়ি কিনতে।এছাড়াও কলকাতাসহ অন্যান্য দেশে ঈশ্বরদীর বেনারসি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রচুর অর্ডার আসছে। বাহারি রঙ ও সুক্ষ কাজের জন্য এবার ঈদে বিভিন্ন ধরনের কাতান শাড়ি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের শাড়ির অর্ডার থাকায় সেগুলো তৈরিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে ফলে দিনরাত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে কারিগরদের। তবে তাঁতপল্লির শ্রমিকরা জানান, বেনারসি পল্লিতে ক্যালেন্ডার মেশিন না থাকায় ঢাকার মিরপুর গিয়ে ক্যালেন্ডার পালিশ করতে হয়। আর এই পলিশ করতে প্রতি শাড়িতে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকা খরচ গুনতে হয় তাদের। ঈশ্বরদীর তৈরি বেনারসি শাড়ি মিরপুরের শাড়ি বলে বিক্রি করে থাকেন ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটের শাড়ি ব্যবসায়ীরা।তাঁতপল্লিতে শাড়ি তৈরি করছেন এক কারিগর। বেনারসি কারিগর জাহাঙ্গীর আলম লিটন (৪৫) বলেন, দৈনিক ১০/১২ ঘণ্টা কাজ করে একটি শাড়ি তৈরি করতে সময় লাগে কারিগর ভেদে ২/৩ দিন। শাড়ি প্রস্তুত হলে তা বেনারসি পল্লির শো-রুমে ওঠানো হয়। সেখানে প্রতিটি শাড়ি সর্বনিম্ন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর কারিগর প্রতিটি শাড়ি প্রস্তুতের জন্য পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। সেই শাড়ি ২ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়ে থাকে।  ।  ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লির স্টেট অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক  জানান, ঈশ্বরদী শহরের ফতেহ মোহাম্মদপুরে অবস্থিত বেনারসি পল্লির নিয়মিত তাঁতীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বাসা বাড়িতে প্রত্যেকেরই নিজস্ব তাঁত রয়েছে। এছাড়াও কয়েক হাজার শ্রমিক বিভিন্ন ধরনের শাড়িতে পুঁতি, ও কারচুপির কাজে ব্যস্ত। এবারের ঈদে তাদের শুধুমাত্র একটিই টার্গেট কাতান ও বেনারসি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও ঈদের জন্য এখানকার শ্রমিকরা দিনরাত কাজ করছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সব-সময় খোঁজ খবর রাখছেন আমরাও তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ রাখছি। ২০০৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লির উদ্বোধন করা হয় ৯০টি প্লট দিয়ে। উদ্বোধন এর পর ৮টি কারখানা চালু রয়েছে। অভিজ্ঞ শ্রমিকের অভাবে পল্লির বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যারা রয়েছে এখন তারাও দৈনিক ২০ থেকে ২৫টি উন্নত মানের শাড়ি তৈরি করে। শাড়ি তৈরির পর ঢাকার মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জ এ পালিশ করার জন্য পাঠানো হয় এতেই কারখানা মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এখানকার কারিগর, কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here