জনগণের পাশে থাকাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য

0
117

তাপস হালদার : বাঙালি জাতির প্রতিটি সঙ্কটে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি এনেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি। জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাসহ নানা রকম চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ আজকের এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছে।

বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচানো এবং তাদের জীবন-জীবিকার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকাও সচল রাখতে হচ্ছে। সেই চ্যালেঞ্জ দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু থেকেই সরকারের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সরকারের তরফে মানুষের চিকিৎসাসহ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনীতি সচল রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে করোনা মোকাবেলায় জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি, কর্মহীন অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদেশে সরকারী সহায়তার বাইরে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরাসরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি সাড়ে ১০ কোটিরও বেশি নগদ অর্থ সহায়তা করেছে। এ ছাড়া জনগণকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ পিপিই, চশমা, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ব্লিচিং পাউডারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে গার্মেন্টস কর্মী, কৃষক-শ্রমিক, নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

দলের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ ৪ লাখ ৬৮ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৬ লাখ ৪৭ হাজার মাস্ক বিতরণ, ছিন্নমূল অসহায় মানুষের কাছে ঈদ উপহার, রমজান মাস জুড়ে বিনামূল্যে সেহরি ও ইফতার বিতরণ, ১৮ হাজার ৫৫০ জন হিজড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত টিম করে কৃষকের বোরো ধান কাটতে সহায়তা করেছে ছাত্রলীগ। যখন হাজার হাজার ছ্ত্রা বাসা ও মেস ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ে তখন এগিয়ে এসেছে ছাত্রলীগ।হ্যালো ছাত্রলীগ সেবা এ্যাপসের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় তিন লাখ মানুষকে সহায়তা প্রদান করেছে সংগঠনটি।

আওয়ামী যুবলীগ ৪২ লাখ দরিদ্র পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা করেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের দাফনের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম। ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, টেলিমেডিসিনসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটেছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ ১০ লাখ অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, ২৪টি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত রোগীর ফ্রি সেবা প্রদান করছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে লাশ দাফনের জন্য কর্মীদের নিয়ে টিম গঠন করেছে সংগঠনটি।

কৃষক লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০ হাজার কৃষককে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। বোরো ধান কাটার জন্য ২২টি হটলাইন সার্ভিস চালুর মাধ্যমে সারাদেশে কৃষি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগসহ প্রতিটি সংগঠন মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।

গত ১৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সারাদেশের নেতাকর্মীদের ৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন। (১) সারাদেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রাণ কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি দল-মত নির্বিশেষে প্রকৃত দরিদ্র দুস্থ অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সঠিক তালিকা প্রণয়নে সহায়তা করবে। (২) করোনার কারণে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার ৫০ লাখ মানুষকে রেশন কার্ডের আওতায় আনবে। এ ছাড়া আগেও ৫০ লাখ হতদরিদ্র, দুস্থ, অসহায় মানুষ রেশনের আওতায় আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রকৃত লোকজন যাতে রেশনের আওতাভুক্ত হয় সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবে। (৩) ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে কমিটি। এ ছাড়া মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখে জনগণের পাশে দাঁড়াবে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে একটি টিম প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শ, সরকারী ও দলীয় উদ্যোগে সারাদেশের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমসহ যাবতীয় নির্দেশনা জেলা, মহানগর, উপজেলা আওয়ামী লীগও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নির্দেশনা প্রদান ও তদারকি করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সরকারী নির্দেশনা, স্বাস্থ্য নির্দেশনা ও জরুরী সেবা প্রদানের তথ্যসহ মানুষকে সচেতনমূলক বার্তা প্রতিনিয়ত প্রচার করা হচ্ছে। যে কোন গুজব প্রতিরোধে সঠিক তথ্য দিয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আবার দলটিরও জনগণের প্রতি রয়েছে অসীম দায়বদ্ধতা। একাত্তরে এ দলটিই গোটা জাতিকে এক সুতায় বেঁধে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। যে কোন সঙ্কটে-দুর্যোগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকতে পারে না। করোনা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আইলা, সিডর, বন্যাসহ যে কোন দুর্যোগে সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। করোনা মহামারীতেও মৃত্যু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জনগণ থেকে বিছিন্ন হয়নি নেতাকর্মীরা। শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে বসে জনগণ থেকে দূরে থাকবে, এটা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অসম্ভব। সে জন্য চরম মূল্যও দিতে হচ্ছে দলটিকে। ইতোমধ্যে সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সিলেটের সাবেক মেয়র কামরান, হাজী মকবুলসহ কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী, এমপি, জেলা, মহানগর, উপজেলা, তৃণমূলের নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যার নির্দেশকে এবাদত মনে করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে যত দুর্যোগ, দুঃসময়, সঙ্কট এসেছে সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। করোনা মহামারীতে বিশ্বের বড় নেতারা যখন পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে সমালোচিত হচ্ছেন, সেখানে বিশ্বের প্রভাবশালী মিডিয়া, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করছে। ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার সব অনুমান ও ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। এর কারণ হলো জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্যারিশমেটিক নেতৃত্ব। তিনি একদিকে যেমন প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন, অন্যদিকে কোটি কোটি নেতাকর্মীকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। যার সুফল পেয়েছে বাংলাদেশের জনগণ।

৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন, সামনে যতই সঙ্কট আসুক, আওয়ামী লীগ সরকার শক্ত হাতে মোকাবেলা করবে।’ কেবল সরকারই নয়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কর্মসূচীতে রয়েছে করোনা মহামারী মোকাবেলার সুদৃঢ় প্রত্যয়। দুঃসময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। অচিরেই কালো মেঘ কেটে যাবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবেই বাংলাদেশ।

লেখক : সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here