মেগা প্রকল্পে চীন-জাপান

0
25

কাজের অগ্রগতি পদ্মা সেতুতে ৮৯.২৫ শতাংশ : মেট্রোরেলে ৪৭.১০ শতাংশ জাপানের সহযোগীতায় সাত মেগা প্রকল্প যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প-২, : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

দেশের অবকাঠামোগত অগ্রগতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া আট মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে অগ্রগতি বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের। সবশেষ জুলাই মাসের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির মূল সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে সার্বিকভাবে প্রকল্পটির ৮১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে এরই মধ্য। করোনায় পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের গতি কমলেও থেমে থাকেনি। গতকাল বুধবার থেকে সেতুর কাজে যোগ দিয়েছেন চীনের বিশেষজ্ঞ দল।

পদ্মা সেতু ছাড়াও বাকি মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে জাপানের সহযোগীতায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। কাগজে-কলমে জুলাই পর্যন্ত মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ১০ শতাংশ হলেও এরই মধ্যে কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাপানে বসেই বিশেষজ্ঞদল কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে স¤প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়া আট মেগা প্রকল্প। এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে পদ্মা সেতু প্রকল্প। এরপরেই অবস্থান মেট্রোরেলের। এই দুটি ছাড়াও প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পগুলোর কোনোটির বাস্তব অগ্রগতিই ৫০ শতাংশ অতিক্রম করেনি।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মেগা প্রকল্পগুলোতে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। এগুলোর গতি বাড়াতে সবকিছুই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিদেশি ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়াররা প্রকল্পে যোগ দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক কোনো সংকটও নেই। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সরবরাহ করছি। যখন যে উদ্যোগ নেওয়া দরকার, সেটি আমরা নিচ্ছি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্পগুলোতে গত কয়েক মাসে কিছুটা হলেও স্থবিরতা এসেছিল। তবে করোনার প্রভাব কাটিয়ে প্রকল্পগুলো ফের গতি পেতে শুরু করেছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প
২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তাবায়ন করছে চীনা কোম্পানী। শুরু থেকে গত জুলাই পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৪২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শতভাগ শেষ। এছাড়া নদী শাসন কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৪ শতাংশ। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ শতাংশ।

পদ্মাসেতু প্রকল্প শুরুর পর ভাঙন ও বন্যাজনিত সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে এবার। সেই ক্ষত কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে স্বপ্নের সেতু প্রকল্প। নদী ভাঙনে হারিয়ে যাওয়া রোডওয়ে স্ল্যাব নির্মাণ ফের শুরু হয়েছে। লুক্সেমবার্গ থেকে আবার অর্ডার দেওয়া হয়েছে রেল স্ট্রিগার। তবে সবকিছু আগের অবস্থায় পৌঁছতে মাস চারেক সময় লাগবে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজে যোগ দিয়েছেন চীনের বিশেষজ্ঞ দল। গতকাল বুধবার তারা কাজে যোগদান করেন। প্রকল্প সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পদ্মার পানি প্রবাহিত হয়েছিল এবার। আর স্রোতের গতিবেগেও ছিল মারাত্মক পর্যায়ে। এমন অবস্থায় পদ্মাসেতুর স্প্যান বসানো বন্ধ ছিল গেল তিনমাস। এর মধ্যে আবারও মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে হঠাৎ ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় হয়ে যায় ১২৬টি রোডওয়ে স্ল্যাব এবং ১৯২টি রেল স্টিগার। তবে আশার কথা হলো, রোড স্ল্যাব নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে পাঁচটি স্ল্যাব নির্মাণও শেষ হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, গতকাল সকাল থেকে চীনের বিশেষজ্ঞ দল পদ্মা সেতুর কাজে যোগ দিয়েছেন। প্রথমদিনেই তারা ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন। স্প্যান বসানোর জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চীনা প্রকৌশলী টিম বন্যা থাকায় ছুটি কাটাতে নিজ দেশে গিয়েছিলেন। এখন পানি কমতে শুরু করেছে, ফলে শুরু হচ্ছে স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি। জানা গেছে, চীনের বিশেষজ্ঞ এই দলের সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমা কোম্পানির তিন সদস্যের একটি দল এসেছে। তারা গত ৩১ জুলাই থেকে পদ্মার ভাঙনে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করবেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, কুমারভোগ ইয়ার্ডে সেতুর বাকি ১০টি স্প্যানের মধ্যে চারটিই পুরোপুরি প্রস্তুত। আরও চারটি স্প্যানের ফিটিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন রং করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর বাকি দু’টি স্প্যানের এখন ওয়েল্ডিং চলছে। ‘২ই’ এবং ‘২এফ’ নম্বর এই স্প্যান দুটিও ফিটিং সম্পন্ন করে পিয়ারে (খুঁটি) বসানোর জন্য প্রস্তুত করা হবে। সবশেষ স্প্যান ‘২এফ’ এর ওয়েল্ডিং শুরু হওয়ায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বেশ সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্প্যান সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াই আমাদের কাছে যুগান্তকারী অগ্রগতি। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটিতে ৪১টি স্প্যানের ৩১টি স্প্যান বসে গেছে। চীনে তৈরি হওয়া সেতুর সব স্প্যানই এখন প্রকল্প এলাকায় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে।

এদিকে, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পেও বিনিয়োগ করেছে চীন। অর্থায়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গত জুলাই পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার ২১ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন মতে, প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ শতাংশ আর সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াও চীনা প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ১ বিলিয়ন জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়াল গেজ রেল লাইন, ১ দশমিক ৩ বিলয়ন ডলারের আখাউড়া-সিলেট মিটার গেজ লাইনকে ডুয়াল গেজে রূপান্তরকরণ প্রকল্প। এ ছাড়া তিস্তা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নদী সংস্কার বিষয়ক প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীন। এ ছাড়া চীনা অর্থায়নে প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ ও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প
২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা শহরে মেট্রোরেলের রুট বিস্তারে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র জাপান। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন মতে, গত জুলাই পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ১১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ১০ শতাংশে। করোনার কারণে কয়েক মাস কাজ বন্ধ থাকলেও এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ইতোমধোই জাপানের ঋণে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৭.১০ শতাংশ। যদিও এরই মধ্যে রাতদিন কাজ চলায় আরও অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের বিজয় দিবসে এই মেট্রোরেল উদ্বোধনের পরিকল্পনা আছে।

মেট্রোরেল প্রকল্পের দৈর্ঘ্য উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে সাহায্য হিসেবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয় বিবেচনা করে আরো দুটি মেট্রোরেল লাইন ১ ও ৫ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাশ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে এ দুই প্রকল্পের কাজ। নতুন এ দুটি মেট্রোরেলে জাপান বাংলাদেশকে আরো ৬৪ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চলেছে। সহজ শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। এ ঋণ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তরা জানান, বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে একসঙ্গে দেওয়া এই সহায়তা হবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার এখন পর্যন্ত দেওয়া সর্বোচ্চ সাহায্য। দ্রুত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এ ঋণচুক্তি। এ বিষয়ে ইআরডি ও জাইকার মধ্যে সব ধরনের পদেক্ষপ নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঢাকাবাসীর জন্য আরো একটি মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১ এর রুট নির্মিত হতে চলেছে। ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরে এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ২৭.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এলাইনমেন্ট ঠিক করা হয়।

এমআরটি লাইন-০১-এ এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-যমুনা ফিউচার পার্ক-নতুনবাজার-বারিধারা-উত্তর বাড্ডা-হাতিরঝিল-রামপুরা-মৌচাক হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬.২ কিলোমিটার এবং অন্যটি নতুনবাজার-যমুনা ফিউচার পার্ক-বসুন্ধরা-পুলিশ অফিসার হাউজিং সোসাইটি-মাস্তুল-পূর্বাচল পশ্চিম-পূর্বাচল সেন্ট্রাল-পূর্বাচল সেক্টর-৭-পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১.৩ কিলোমিটার রুট নির্মিত হবে। এই প্রকল্পে জাইকা ঋণ দেবে ৩৩ হাজার ৯১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ চলতি সময় থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ব্যয় বিবেচনায় এটি ফাস্ট-ট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-৫ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। নতুন এই মেট্রোরেলের এলাইনমেন্ট হলো-হেমায়েতপুর-বালিয়ারপুর-মধুমতি-আমিনবাজার-গাবতলী-দারুসসালাম-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-মিরপুর-১৪-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান-২-নতুনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত। ২০২৮-এর ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে জাইকা দেবে ৩০ হাজার ৭৫৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প-১ ও মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড পাওয়ার প্রজেক্ট-৫ প্রকল্পে ৮৪ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান।

জাইকা সূত্র জানায়, এ বছর বাংলাদেশের সাতটি মেগা প্রকল্পে ঋণ সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে জাপান। ১৯৭৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহায়তা এটি। সাত মেগা প্রকল্পগুলো হলো- যমুনা রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প-২ (ঋণের পরিমাণ ৮৯.০১৬ বিলিয়ন ইয়েন), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্ধিতকরণ প্রকল্প-২ (ঋণের পরিমাণ ৮০ বিলিয়ন ইয়েন), ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্প-৪ (ঋণের পরিমাণ ৭২.১৯৪ বিলিয়ন ইয়েন), ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্প (লাইন ৫) (ঋণের পরিমাণ ৫৫.৬৯৬ বিলিয়ন ইয়েন), চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে প্রকল্প (ঋণের পরিমাণ ১.৯০৬ বিলিয়ন ইয়েন), ফুড ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্প (ঋণের পরিমাণ ১১.২১৮ বিলিয়ন ইয়েন) এবং নগর উন্নয়ন ও শহর সুশাসন প্রকল্প (ঋণের পরিমান ২৮.২১৭ বিলিয়ন ইয়েন)।

এ ছাড়া জাপান সরকারের সহায়তায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ছোট-বড় ২১টি সেতু নির্মাণ ও পুননির্মাণ করা হবে। এজন্য খরচ হবে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। সেতুগুলো নির্মিত হবে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলায় ৬১টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলোর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরো ২১টি সেতু।

অন্যদিকে, দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলাকে মূল ভূখন্ডে যুক্ত করতে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ‘কনস্ট্রাকশন অব ভোলা ব্রিজ অন বরিশাল-ভোলা রোড ওভার দ্য রিভার তেঁতুলিয়া অ্যান্ড কালাবদর’ শীর্ষক প্রকল্পটির জন্য জাপান সরকারের সাথে আলোচনা চলছে।

প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সময়সীমা ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চার লেনের সেতুটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার ও ১০ হাজার ২৬১ কোটি টাকা সহযোগী উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাপানের সাথে আলোচনা এগিয়ে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here